Breaking News
October 15, 2018 - An honorary crest-2018 was handed over on the occasion of the 18th anniversary of Sharmin Selim Tuli’s business. Twelve successful women in different fields of the society were honored. The book ‘Rup Charchar Satsotero’ written by Sharmin Selim Tuli was unveiled at All-Community Club of Gulshan-2 in the city on Saturday evening. State Minister for Women and Children Affairs Meher Afroz Chumki, Salma Islam MP, Raziuddin Ahmed Razu, MP among others were present.
October 15, 2018 - SAK Ekramuzzaman, Managing Director of Rakeen Development Company (BD) Limited, handing over a symbolic key to a flat owner of Bijoy Rakeen City in Mirpur at a ceremony on Sunday. Lt. Col (Retd.) AKM Zahurul Islam, Company Chief Operating Officer and other senior officials of the company were also present.
October 15, 2018 - Befitting reply awaits Padma Bridge “conspirators”: PM
October 15, 2018 - Dr Kamal joined hands with killers: PM
October 15, 2018 - Youth engagement in development process a must to achieve SDGs: Rizvi
October 15, 2018 - President, PM greet Hindu community on Durga Puja
October 15, 2018 - Jukto Front’s alliance with criminals ridicules nation: Inu
October 14, 2018 - BNP is a terrorist party: Quader
October 14, 2018 - All set to make Prime Minister’s visit to Mushiganj success
October 14, 2018 - GDP to increase by 2 percent due to Padma Bridge: Quader
October 14, 2018 - 17,000 assistant teachers to be promoted to headmaster: Mostafizur
October 14, 2018 - No alternative to Sheikh Hasina’s leadership for dev: Moshiur
October 14, 2018 - Next JS election as per constitution: Hanif
October 14, 2018 - Nahid for building bondage among Muslim countries for global terrorism
October 14, 2018 - ‘Made in Bangladesh’ is our national pride: Jabbar
October 10, 2018 - Verdict in August 21 grenade attack case today
October 10, 2018 - No mercy for sabotage acts centering Aug 21 grenade attack verdict: Quader
October 10, 2018 - Dr Kamal, B Chowdhury’s great somersault for Tarique Zia: Inu
October 9, 2018 - No alternative to victory of AL: HT Imam
October 9, 2018 - PM donates Tk 50 lakh for Prof Mahbub’s treatment
October 9, 2018 - Digital Security Act to save innocents: Quader
October 9, 2018 - Information on education made available online: Nahid
October 9, 2018 - Govt approves National Agriculture Policy 2018
October 8, 2018 - Bangladesh clinch maiden SAFF U-18 Women’s Championship title
October 8, 2018 - nvestment will further rise: Muhith
October 8, 2018 - BNP needs to join polls to change state power: Quader
October 7, 2018 - Syed Waseque Md. Ali, Managing Director of First Security Islami Bank Limited, speaking at a view exchange meeting regarding modern technology-based remittance payment system as chief guest held at Rome in Italy recently. Md. Hamid Alam, Country Manager, Farid Ahmed Bhuiyan, Operations Manager, Rahat Jaman, Office Dean of First Security Islami Exchange, Italy S.R.L were also present.
October 7, 2018 - BD to be 26th largest economy by 2030, says envoy to USA
October 7, 2018 - BD received $1,127.36m remittance in Sept
October 7, 2018 - Business Climate Dialogue with EU: Bangladesh seeks GSP Plus benefit

(মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে উপর্যুক্ত বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন: ড. আতিউর রহমান, গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

তিনি বাংলাদেশের আরেক নাম। যেন একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। রাজনীতির এই অমর কবির শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যের নাম বাংলাদেশ। অথচ-

‘এ দেশের যা-কিছু তা হোক না নগণ্য, ক্ষুদ্র

তাঁর চোখে মূল্যবান ছিল –

নিজের জীবনই শুধু তাঁর কাছে খুব তুচ্ছ ছিল;

স্বদেশের মানচিত্র জুড়ে প’ড়ে আছে

বিশাল শরীর …।’

-রফিক আজাদ (এই সিঁড়ি)

স্বদেশের মানচিত্র জুড়ে পড়ে থাকা এই ‘দিঘল পুরুষের’ নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি ‘হাত বাড়ালেই/ধরে ফেলতো পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইল/সাড়ে সাত কোটি হৃদয়/ধরে ফেলতো বৈশাখী মেঘ কেমন অনায়াসেই’ (বাবুল জোয়ারদার, ‘সে ছিল দিঘল পুরুষ’)। তিনি জাতির জনক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। ইতিহাসের এই বরপুত্রের ‘চোখে ধরা পড়েছিল রূপসী বাংলার স্নিগ্ধ মুখশ্রী,/তাই তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল-‘আমার সোনার বাংলা’/তাই তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল মুক্তি-স্বপ্ন প্রিয়/স্বাধীনতা’ (নির্মলেন্দু গুণ, ‘পুনশ্চ মুজিবকথা’)। আর সে কারণেই বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক। তাই বেদনায় নীল হয়ে রক্তাক্ত এই আগস্টে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তাঁকে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নাম জানা না জানা শহীদদের।

বঙ্গবন্ধুর পুরো জীবনটাই বাংলাদেশ সৃষ্টির একটি ধারাবাহিক ইতিহাস। হাজার বছরের দুঃখী, বঞ্চিত বাঙালির আশা আকাঙ্খা, প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বাংলাদেশকে তিনি শৈশব থেকেই তাঁর পাঠের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ে পরিণত করেছিলেন। মধ্যবিত্ত ঘরের এই  সন্তান সাধারণের মাঝেই বেড়ে ওঠেন। কিন্তু শৈশব থেকেই তাঁর ভাবনা চিন্তা ছিল স্বদেশ কেন্দ্রিক। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর অন্তর জুড়ে ছিল প্রিয় স্বদেশ। সেদিনের সেই শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা-সে এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক পথ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান এবং সর্বশেষ জাতির জনকের মর্যাদায় আসীন হবার পথ পরিক্রমা খুবই বর্ণিল ও বৈচিত্রময়। নিজে সাহসী ছিলেন, ছিলেন নিরন্তর সংগ্রামী। সেই সাহস ও সংগ্রামের চেতনা তিনি নিপুণ দক্ষতায় পুরো জাতির মননে গেঁথে দিতে পেরেছিলেন। তিনিই বীর যিনি মৃত্যুকে ভয় পান না। বার বার তিনি সেই বীরত্বের প্রমাণ রেখেছেন। কী নিবিষ্ট মনে এককালের শেখ মুজিব এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত তথা সাধারণ মানুষের স্বার্থ চিন্তায় নিমগ্ন থেকে বঙ্গবন্ধুতে রূপান্তরিত হলেন-তা এক বিস্ময়কর উত্থানের কাহিনী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা কেবল এই উপমহাদেশেই নয়, সারা বিশেবর জন্যেই ছিল এক ব্যতিক্রমী অনন্য অসাধারন ঘটনা। সুদীর্ঘকাল ধরে অবিভক্ত বাংলার রাজনীতিতে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন যেমন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, শরৎচন্দ্র বসু, কিরন শংকর রায়, সোহরাওয়ার্দী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, আবুল হাশিম-তাঁরা সবাই ছিলেন অভিজন, এলিট শ্রেণীর মানুষ। এমনকি শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং মওলানা ভাসানীও ছিলেন স্ব-স্ব অবস্থানে সুপ্রতিষ্ঠ। তাঁদের সকলের অনুজ ও স্নেহধন্য বঙ্গবন্ধু ছিলেন ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর আত্মপরিচয়ে স্বীকৃত এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সাধারণ ঘরের এক অসাধারণ সন্তান। নন-এলিট শ্রেণী থেকে উঠে আসা এক বিরল নেতৃত্ব। বাঙালির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অহংকার।

একদিনেই তিনি এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হননি। খনি শ্রমিকের মতো তিলে তিলে এগিয়ে গেছেন এই মর্যাদায় আসীন হবার জন্য। অকুতোভয় এই অসাধারণ নেতার পুরোটা জীবন সাহস ও সংগ্রামের নজিরবিহীন এক উত্থানের গর্বিত উপাখ্যান। সকল অর্থেই বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বদেশের প্রতিচ্ছবি। তাঁর পুরোটা জীবনই স্বদেশের মুক্তির সংগ্রামের এক ধারাবাহিক ইতিহাসেরই ভিন্ন নাম। তিনি জন্মেছিলেন বলেই আমরা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক। তাঁর অতুলনীয় প্রজ্ঞা, সাহস, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই এতো অল্প সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। আসলে জাতি কেউ তৈরি করে না, জাতি হয়ে উঠে। এই জাতি বা রাষ্ট্র হয়ে উঠার প্রতিটি পর্ব যাঁর উপস্থিতির কারণে সম্ভব হয়েছে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক ও স্থপতি। বাংলাদেশের যাত্রা বিন্দুই হলেন বঙ্গবন্ধু, আর কেউ নন। ইতিহাস তাঁকে সৃষ্টি করে নি, তিনিই সৃষ্টি করেছেন আমাদের সংগ্রামী ইতিহাস। বাঙালির সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, চাওয়া-পাওয়া, আশা-হতাশার এক মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। তাই ৩০ মে ১৯৭৩ তারিখে ডায়েরিতে লিখতে পেরেছিলেন, ‘As a man, what concerns mankind concerns me. As a Bengalee, I am deeply involved in all that concerns Bengalees. This abiding involvement is born out of and nourished by love, enduring love, which gives meaning to my politics and to my very being’ .

পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি পাকিস্তান গণপরিষদে কৃষকদের পক্ষে জোরালো ভূমিকা গ্রহণ; ষাটের দশকে বাঙালির মুক্তির সনদ ছয়-দফা ঘোষণা, সত্তরের নির্বাচনী কর্মসূচিতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের কল্যাণে অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি সংস্কার ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, সকলের অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং সর্বোপরি বাঙালির সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তির দাবীতে সর্বক্ষণ সোচ্চার ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এভাবেই দিনে দিনে বেড়ে উঠেছিলেন ইতিহাসের মহান দায়িত্ব পালনের জন্যে এবং যা তিনি আজীবন সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে পালন করেছিলেন। সর্বসাধারণের মঙ্গল ভাবনায় তিনি সমসময় থাকতেন নিমগ্ন। ‘নিজেদের প্রাণ দিয়েও যদি এদেশের ভবিষ্যত নাগরিকদের জীবনকে কন্টকমুক্ত করতে পারি, আগামী দিনগুলোকে সকলের জন্যে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী করে তুলতে পারি এবং দেশবাসীর জন্যে যে কল্পনার নকশা এতদিন ধরে মনের পটে এঁকেছিলাম-সে স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণের পথ প্রশস্ত করে দুঃখের বোঝা যদি কিছুটাও লাঘব করে যেতে পারি তাহলে আমাদের সংগ্রাম সার্থক হবে’ (বঙ্গবন্ধু, গণমাধ্যমে বিবৃতি, ১ ডিসেম্বর ১৯৭০)।

অনুপম দেশপ্রেম ও দেশের মানুষের প্রতি অগাধ বিশবাস আর ভালবাসা বঙ্গবন্ধুকে ইস্পাতসম সাহসী ও দৃঢ় করেছিল। তাই বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যথার্থ বীরের মতো অবিচল থেকেছেন বাঙালির মুক্তির দাবিতে; আপোষ করেননি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক চক্রের সাথে। দৃঢ় প্রত্যয়ী বঙ্গবন্ধু তাঁর সম্মোহনি শক্তি দিয়ে পুরো জাতিকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলেন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে; সহায়-সম্বলহীন বাঙালি জাতি

তাঁর সেই তেজদীপ্ত সংগ্রামী আহবানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মাতৃভূমি রক্ষার সংগ্রামে। স্বাধীনতা ও মুক্তি-দুটোরই আহবান জানিয়েছিলেন তিনি সেদিন। ‘‘বাঙালির ক্ষোভ, দুঃখ, অপমান, জেদ, অহং, সংযম, স্বপ্ন, প্রতিরোধ, সংকল্প-সব কিছুই সমন্বিতভাবে অর্কেষ্ট্রার মতো সেদিন বেজে উঠেছিল তাঁর বজ্রকণ্ঠে”। বর্তমান বিশবায়নের মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী অর্থনীতির গুরুত্ব আজ থেকে ছয় দশক

আগেই প্রখর ধীশক্তি সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। ঐতিহাসিক ছয়-দফায় তাঁর সেই ভিশনের যথার্থ প্রতিফলন দেখতে পাই। সে জন্যেই পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক নীতিকে চিহ্নিত করে দুর্বার আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। রেসকোর্স ময়দানে একাত্তরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।” সেই মুক্তির সংগ্রাম ছিল সর্বাঙ্গীন। মুক্তির সংগ্রামের এই ডাক ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির। এলিট নিয়ন্ত্রিত বৈষম্যের অর্থনীতির তিনি ঘোর বিরোধী ছিলেন। গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর মনের গহীনে।

স্বাধীনতার পর রক্তাক্ত, ছিন্নভিন্ন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা তথা তাঁর স্বপ্নের আলোকে উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার কাজে তিনি নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। স্বাধীনতা লাভের এক বছরের মধ্যেই দেশ পুনর্গঠনে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ, পুরো দেশবাসীকে এ কাজে উজ্জীবিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর নেয়া পদক্ষেপসমূহ আশাতীত সাফল্য অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্রীজ, কালভার্ট, সেতু নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ধ্বংস প্রায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠন, দক্ষ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন, উত্তর-দক্ষিণ শীতল রাজনৈতিক মেরুকরণে দেশকে ‘জোট নিরপেক্ষ-সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়’ নীতিতে প্রতিষ্ঠিতকরণ, আদমশুমারি ইত্যাদি ছিল তাঁর উলে-খযোগ্য কর্মপ্রয়াস।

কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে ধ্বংসপ্রাপ্ত কৃষি অবকাঠামো পুননির্মাণ, কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ, কৃষি পণ্যের ন্যূনতম ন্যায্যমূল্য বেঁধে দেওয়া, বকেয়া কৃষি ঋণ মওকুফ, নামমাত্র মূল্যে বীজ সরবরাহ এমনতর বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, ‘আমাদের চাষিরা হলো সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেণী এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্যে আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পিছনে নিয়োজিত করতে হবে’ (বঙ্গবন্ধুর বেতার ও টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ, ২৬ মার্চ ১৯৭২)। তাঁর ছিল স্বদেশী উন্নয়ন চিন্তা।

দিন বদলের জন্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষ, আমাদের মাটি আছে, আমার সোনার বাংলা আছে, আমার পাট আছে, আমার গ্যাস আছে, আমার চা আছে, আমার ফরেস্ট আছে, আমার মাছ আছে, আমার লাইভস্টক আছে। যদি ডেভেলপ করতে পারি ইনশাল-াহ এ দিন থাকবে না’ (১৯৭৫ সালের ২৬ শে মার্চ এর বক্তৃতা)। বঙ্গবন্ধুর আজন্ম স্বপ্ন ছিল মাটি ও মানুষ ঘনিষ্ঠ অর্থনীতি গড়ে তোলা। তাইতো তিনি বলতেন, ‘আমার মাটির সাথে, আমার মানুষের সাথে, আমার কালচারের সাথে, আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে, আমার ইতিহাসের সাথে যুক্ত করেই আমার ইকোনমিক সিস্টেম গড়তে হবে’।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রয়াসে তাঁর সুকন্যার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সূচিত উন্নয়ন রূপকল্প বাস্তবায়নে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা, উচ্চ প্রবৃদ্ধি সহায়ক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ বা financial inclusion কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আর্থিক ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধনকল্পে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার প্রচলনে

নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। Digital Bangladesh বিনির্মাণে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত তার সবের্বাচ্চ অবদান যাতে রাখতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক তা নিশ্চিত করতে সর্বক্ষণ তৎপর রয়েছে। এ কাজের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমরা বঙ্গবন্ধুর আত্মার আত্মীয় এদেশের কৃষক, ক্ষুদে উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তাসহ বিরাট সংখ্যক সৃজনশীল উদ্যোক্তা শ্রেণীর ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের সহযাত্রী হিসেবে ব্যাংকিং খাতকে গতিশীল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুর এই গরিব হিতৈষী স্বদেশী উন্নয়ন ভাবনা সাম্প্রতিক বৈশিবক মন্দা মোকাবিলায় প্রধানতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সারা বিশেব। নিশ্চয় আমরা গর্ব করতে পারি তাঁর স্বদেশী উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিকে আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক, কৃষি ঋণের পরিমাণগত ও গুণগত ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। গত বছর আমাদের ব্যাংকিং খাতের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২,১৮৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ। বর্গাচাষিদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের জন্যে প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কীম চালু করা হয়েছে। উক্ত স্কীম এবং বার্ষিক কৃষি ঋণ কর্মসূচির আওতায় মোট ৬,৬১,০০০ জন বর্গাচাষিকে প্রায় ১০১০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, আমদানি বিকল্প ফসল চাষের জন্যে কৃষকগণকে ২ শতাংশ রেয়াতী সুদহারে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

গত অর্থবছরে ৩,৩২,০০০ হাজার নারীকে ৭২৫ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরের জন্যে ১৩,৮০০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া, সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন ভর্তুকী ব্যাংকের মাধ্যমে সহজে প্রাপ্তির জন্যে মাত্র ১০ টাকা জমা দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৫ লক্ষ কৃষক ব্যাংকে গিয়ে তাদের একাউন্ট খুলেছেন। মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ ব্যবস্থাকে টেকসই করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ক্ষুদ্রায়তন ও কুটির শিল্পকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করে বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘গ্রামে-গ্রামে সব শিল্পকে এমনভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে, যার ফলে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে বিভিন্ন প্রকার শিল্প সুযোগ পৌঁছায় এবং গ্রামীণ মানুষের জন্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।’ তাঁর এ উন্নয়ন চিন্তাকে বাস্তবে রূপায়নের জন্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসএমই খাতের অধিকতর বিকাশ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি পৃথক বিভাগ খোলা এবং ২০১০ সাল থেকে প্রথমবারের মতো ৩৮,৮৫৮ কোটি টাকা এসএমই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উক্ত বছরে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৫৩,৫৪৪ কোটি টাকা এসএমই ঋণ বিতরণ করেছে যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ১৩৮ শতাংশ। ২০১১ সালে এসএমই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৬,৯১৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ০৬ মাসে (জুন ২০১১ পর্যন্ত) ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ১,৪৯,৮৭৪টি এসএমই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৬,১১৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৬ শতাংশ।

এছাড়া, বার্ষিক এসএমই ঋণ কর্মসূচির আওতায় এ বছরের প্রথম ০৬ মাসে ৬,৬৮৬ জন নারী উদ্যোক্তাকে ৯৮৯ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কীমের আওতায় ৩২৭৭ জন নারী উদ্যোক্তাকে ২৩৩ কোটি এসএমই ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

সৌরশক্তি (Solar energy), বায়োগ্যাস (Bio-gas) ও বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট (ETP) খাতে ঋণ প্রদানের জন্যে ২০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কীম গঠন করা হয়েছে। গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ সুবিধাবিহীন এলাকায় ব্যাংকগুলো ১০৯৬৭টি বাসগৃহে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন, ৩টি সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প স্থাপন এবং সমন্বিত গরুপালন ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যার বিপরীতে উক্ত স্কীমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ১৭.৪৭ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করেছে।

এ সমস্ত পদক্ষেপের ফল সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য। একই সঙ্গে ব্যক্তিখাতের ও সরকারী ব্যাংকগুলোকে গ্রামে আরো বেশি শাখা খোলার জন্যে আমরা উৎসাহী করে যাচ্ছি। প্রযুক্তি নির্ভর মোবাইল ব্যাংকের প্রসার ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রিয়জন সাধারণ মানুষকে বেশি করে ব্যাংকিং সেবার সুযোগ সৃষ্টি করছি।

১৮ জানুয়ারি ১৯৭৪ সনে আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউক্কিলে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি যদি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি, আমি যদি দেখি বাংলার মানুষ দুঃখী, আর যদি দেখি বাংলার মানুষ পেট ভরে খায় নাই তাহলে আমি শান্তিতে মরতে পারব না-পারব না-পারব না’। কী নিবিড় ছিল তাঁর জনগণের জন্যে ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধুর সে ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কৃষি ও কৃষকের উন্নতি, ক্ষুদে উদ্যোক্তাদের উন্নতি, নারী উদ্যোক্তাদের উন্নতি এমনিকরে সমাজের প্রতিটি পরতে পরতে আমরা উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে চাই। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের সঙ্গে সংশি-ষ্ট সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে তৎপর হতে হবে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘‘আপনারা জানেন, জীবনে আমি কোনো দিন মিথ্যা ওয়াদা করি না। ….. আমি চাই আমরা বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাক। আমি কী চাই? আমার বাংলার বেকার কাজ পাক” (বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, ০৯ মে ১৯৭২, রাজশাহী)।

বঙ্গবন্ধু নিরন্তর শুধু আমাদের দিয়ে গেছেন। কিছুই নেন নি। এই আদর্শ অন্যদের মনে গেঁথে দেয়ার জন্যে ১৯৭৫ সনের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে তিনি বলেছিলেন, ‘‘দুঃখের বিষয় আজ শুধু আমরা বলি, আমরা কী পেলাম। তোমার কী পেয়েছো? তোমরা পেয়েছো শিক্ষার আলো, যে শিক্ষা পেয়েছো বাংলার জনগণের টাকায়। তুমি কী ফেরত দিয়েছো বাংলার দুঃখী মানুষকে, যে দুঃখী না খেয়ে মরে যায়? যে মানুষের কাপড় নাই, যে মানুষ বন্ধু খুঁজে পায় না, যার বসত্র নাই, শার্ট নাই, বুকের হাড়গুলো পর্যন্ত দেখা যায়, তাকে আজকে তোমরা কী দিয়েছো? এ প্রশ্ন আজ এখন জেগে গেছে।”

তাঁর তোলা এই প্রশ্নের আলোকে আজ আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের মানসিকভাবে নিঃস্বার্থ দেশ হিতৈষার জন্যে প্রস্ত্তত হতে হবে।

দেশের মানুষের দুঃখ কষ্ট যেন দেশ পরিচালকদের সমভাবে ব্যথিত করে। তবেই না বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে। জনগণের দুঃখ কষ্ট দূর করার জন্যে নিরন্তর আমাদের কাজ করে যেতে হবে। আর এর মাধ্যমেই জাতির পিতার কাছে আমাদের আরাধ্য ঋণ পরিশোধ করতে চাই। কেননা, ৭৫ এর বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁর স্বপ্নের স্থাপত্যকর্ম আধুনিক বাংলাদেশের যে সমূহ ক্ষতি হয়ে গেছে, তার পুননির্মাণের দায়িত্ব তাঁরই প্রিয় সন্তান দেশপ্রেমী নাগরিকদের নিতে হবে।

ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া বাংলাদেশের সংরক্ষণ ও নতুন নির্মাণ প্রচেষ্টায় সর্বশক্তি নিয়োগ করার মাধ্যমেই আমরা বাঁচতে পারি ও বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারি। শুধুমাত্র উপযুক্ত সুকর্মের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকেও আমরা চিরস্মরণীয় করে রাখতে পারি। আসুন সকলেই

এমন প্রতিজ্ঞা করি যেন তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা নির্বিঘ্নে গড়ে তুলতে পারি। তবেই না তিনি থাকবেন আমাদের নিঃশবাসে প্রশবাসে। আবারও বঙ্গবন্ধুর আত্মাকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।

পরিশেষে, অন্নদা শঙ্কর রায়ের সেই কালজয়ী কবিতার দু’টি লাইন উচ্চারণ করতে চাই-

‘‘যতদিন রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান

ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।”

About author

Leave a reply

You must be logged in to post a comment.

AWARD

Reflection Team

বাংলা

স্যান্ডউইচের দামে দেহ বিক্রি করছেন গ্রিক নারীরা!

স্যান্ডউইচের দামে দেহ বিক্রি করছেন গ্রিক নারীরা!

ভেঙে পড়ছে গ্রিসের অর্থনীতি। দুই মেয়াদে ক্ষমতায় এসেও সিপ্রাস সরকার চিত্রটা পাল্টাতে পারেনি। দিন দিন বাড়ছে বেকারত্ব। গোটা দেশটার আর্থ-সামাজিক…

Recent Video

Photo Gallery

Folder not found
wp-content/uploads/2012/02/